Wednesday, August 26, 2015

আর্থিক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে


আর্থিক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে | daily nayadiganta

আর্থিক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে | daily nayadiganta
ব্যাংক বা আর্থিক খাত হলো যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলভিত্তি। এ জন্য এর বুনিয়াদ শক্ত করে অর্থনৈতিক বিকাশের ভিত্তি মজবুত করার প্রচেষ্টা নেয়া হয়। স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার পাশাপাশি গতিশীল ব্যবস্থাপনা ও অনুকূল পরিবেশে যাতে ব্যাংক খাত কাজ করতে পারে, তার জন্য মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক ও তদারকিব্যবস্থা তৈরি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে যেকোনো দুর্বলতা আর্থিক খাতের পাশাপাশি সার্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে এর দুর্ভাগ্যজনক ব্যত্যয় বারবার দেখা যাচ্ছে।
একটি জাতীয় অর্থনৈতিক দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বেসরকারি খাতের বৃহত্তম ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ১৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ এসব চাকরিজীবীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেয়া শুরু করেছে। তাদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য, ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট ইত্যাদির কপি নিয়ে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানোসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। দৈনিকটি এ ব্যাপারে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তি এবং ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন পড়লে সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, সরকারের পুলিশ বিভাগ দেশের বৃহত্তম এই বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি করে কোন লক্ষ্য অর্জন করতে চায়! এ লক্ষ্য যে জাতীয় স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু না হয়ে ভিন্ন কোনো দেশ বা কায়েমি স্বার্থের বিষয় হবে তাতে সন্দেহ নেই।
সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে তদারকি ও পর্যবেক্ষণ বাড়াতে চাইলে এই উদ্যোগকে সবাই সাধুবাদ জানাবে। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটার পরও এক রহস্যজনক কারণে সেগুলোর প্রতি যেন চোখ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ঋণ পুনর্গঠনের নামে বিতর্কিত নীতি গ্রহণ করে এক শ্রেণীর মাফিয়া ব্যাংক ঋণগ্রাহকদের অনৈতিক সুবিধা লাভের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। অন্য দিকে যে ব্যাংকটি বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বেশি রাজস্বের জোগান দিচ্ছে, শিল্পায়নে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছে, দারিদ্র্য বিমোচনে সর্বাধিক ুদ্র বিনিয়োগ করছে, অব্যাহতভাবে সর্বাধিক পরিমাণ রেমিট্যান্স আনছে, সে ব্যাংকটির চাকরিজীবীদের নির্বিচারে হয়রানি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আদপে কার স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে? 
কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে রাষ্ট্রের যেকোনো নাগরিককে আইনের আওতায় আনা যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে যেখানে অর্থের বিনিময়ে ক্রসফায়ার, ব্ল্যাকমেইলিং, ছিনতাই, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো মারাত্মক সব অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে, তাদের হাতে সংবেদনশীল একটি তফসিলি ব্যাংকের সব জনবলের তালিকা ধরিয়ে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তকার্যক্রম চালাতে কোন বিবেচনায় বলা হচ্ছে? এর মাধ্যমে কি অনেক অসাধু ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে আর্থিক ফায়দা হাসিলের অবাধ লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না? 
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীলতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তদারকি পর্যবেক্ষণ ও অভিভাবকত্বের আওতায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে যখন-তখন যেকোনো শাখায় বা শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত চালাতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই সাংবিধানিক ও আইনি কর্তৃত্বকে উপেক্ষা করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চাকরিজীবীদের এ ধরনের পুলিশি হয়রানির ব্যবস্থা সার্বিক ব্যাংক খাতে অস্থিরতা ও অরাজকতা ডেকে আনতে পারে। আমরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনায় আসা উচিত বলে মনে করছি। প্রত্যাশা করছি, ব্যাংক খাতকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক খেলাধুলার হাতিয়ার বানানো হবে না। রাষ্ট্রের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন কোনো কাজ কাউকে করার অবকাশ কোনোভাবেই দেয়া হবে না।
--
Pl see my blogs;


Feel free -- and I request you -- to forward this newsletter to your lists and friends!